হবি গন্জে রহস্যজনকভাবে গৃহবধুর লাশ ঘিরে শুরু হয়েছে ক্ষোভ।
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানাধীন গনশামপুর, নালারপাড় গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিজ ঘরের বিছানা থেকে বিউটি (২৩) নামের ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, বিউটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
নিহত গৃহবধূর ভাই জানান,
আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি বোন বিউটির বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা অত্যন্ত ঝাঁঝালো গলায় তাঁকে বলেন, "তোর বোন বিছানায় পড়ে আছে, গিয়ে দেখ।" ঘরে ঢুকে তিনি বিছানার ওপর বিউটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তারা প্রথমে দাবি করেন বিউটি 'স্ট্রোক' করেছেন। কিন্তু লাশের গলায় রশির স্পষ্ট কালো দাগ দেখে ভাই যখন এর কারণ জানতে চান, তখন পল্টি খেয়ে বলেন, "তোর বোন গলায় দড়ি দিয়েছে।" এভাবে একেক সময় একেক রকম পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে থাকেন দেবর, ভাসুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। লাশের সার্বিক অবস্থা ও স্বামীদের আচরণে এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা।
এলাকার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পলাশ সাহেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, "লাশের তদন্ত হওয়ার পর দেখা যাক কী হয়েছিল।" এরপর ঘটনার বিষয়ে 'মাটি ও জনতার কথা' পত্রিকার প্রতিনিধি বিস্তারিত কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে মাঝপথেই ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
ঘটনার পর জনসম্পৃক্ত একজন জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পুরো বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
উল্লেখ্য বিউটির স্বামী মো. ইব্রাহিম একজন প্রবাসী।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছায়। সারাদিন কেটে যাওয়ার পর বিকেল বেলা চুনারুঘাট থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একজন তরুণী গৃহবধূর এমন রহস্যময় মৃত্যুর পরও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো মামলা দায়ের করেনি। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ইব্রাহিম বা শ্বশুরবাড়ির কাউকেই আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। পুলিশের এমন ঢিলেঢালা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানামুখী গুঞ্জন ও রহস্যের দানা বাঁধছে।
এদিকে আদরের কন্যাসন্তানকে হারিয়ে মা এখন প্রায় পাগলপ্রায়। অসুস্থ বাবাও মেয়ের শোকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
পুরো পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বিউটি আক্তারের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর পেছনে কোনো অপরাধী থাকলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
চুনারুঘাট প্রতিনিধি