ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহে নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার, নৌপুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩০২

এক সপ্তাহে নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার, নৌপুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩০২ ছবি: সংগৃহীত
ad728

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীগুলোতে নৌপথের নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য শিকার প্রতিরোধ এবং অপরাধ দমনে গত এক সপ্তাহে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে নৌপুলিশ। সাত দিনব্যাপী এই ধারাবাহিক অভিযানে নদী থেকে মোট ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে ৩০২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) নৌপুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


নৌপুলিশ জানায়, গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন নদী থেকে মোট ১৭টি অপমৃত্যু ও নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নৌপথে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • হত্যা মামলা: ৩টি

  • অপমৃত্যু মামলা: ১১টি

  • ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলা: ৩টি (প্রতিটিতে ১টি করে)

  • মৎস্য আইন লঙ্ঘন মামলা: ৬৩টি

  • বেপরোয়া গতি ও নৌ-দুর্ঘটনা আইন: ১৩টি

  • বালুমহাল ও মাদক মামলা: ২টি (প্রতিটিতে ১টি করে)

  • বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলা: ১টি


কোটি টাকার অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ:

নৌপথের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নৌপুলিশের এই অভিযান ছিল অত্যন্ত কার্যকর। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনে জব্দ করা হয়েছে:

  • অবৈধ কারেন্ট ও সুতা জাল: ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার।

  • বিভিন্ন প্রজাতির মাছ: ২ হাজার ৮৯৬ কেজি।

  • বাগদা চিংড়ির রেণু: ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ পিস।

  • জেলিযুক্ত বিষাক্ত চিংড়ি: ৪৯০ কেজি।

  • অবৈধ ঝোপঝাড় ধ্বংস: মাছ শিকারের জন্য নদীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি ১৭৯টি ঝোপঝাড় ও চড়ানি ধ্বংস করা হয়েছে।

বাল্কহেডের বিরুদ্ধে আইনি অ্যাকশন ও ড্রেজার জব্দ:

নৌপথে রাতে অবৈধ চলাচল এবং ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে মেরিন বা নৌ-আদালতে মামলা দায়ের করেছে নৌপুলিশ। এছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ২টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে।

নৌপুলিশের বার্তা: বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এবং নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপথে অপরাধের মাত্রা কমানো এবং দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধারে নৌপুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী কোনো নৌযানকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবি এবং অবৈধ মৎস্য শিকারের ঘটনা ঘটে। এক সপ্তাহে ১৭টি মরদেহ উদ্ধার এবং ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে মামলার চিত্র প্রমাণ করে আমাদের নৌপথগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। নৌপুলিশের এই কঠোর নজরদারি বারো মাস বজায় রাখা জরুরি।


হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির নত

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির নত