পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য। খবর প্রেস টিভির।
ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে, তারা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না যাতে ইরান এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
মার্কিন অবরোধ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় তেহরানও এই অঞ্চলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে।
বাহরাইনের ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: তেহরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত ওয়াশিংটন বারবার লঙ্ঘন করেছে।
আসছে নতুন ‘আইনি শাসন’ ও মাশুল:
ইরানের সংসদ হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন আইন পাসের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ জানিয়েছেন:
ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ: ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না।
শত্রুভাবাপন্ন দেশ: যুক্তরাষ্ট্রসহ শত্রু দেশের জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
টোল আরোপ: অন্যান্য দেশের জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘টোল’ বা মাশুল দিতে হবে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই হুঁশিয়ারির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম আকাশচুম্বী হওয়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক