পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত শক্তিশালী ওপিওয়েড ট্যাবলেট ‘ট্যাপেন্টাডল’-এর অবৈধ অনুপ্রবেশ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ওষুধটি স্থানীয়ভাবে ‘জম্বি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত বিপজ্জনক মাদক ‘কুশ’-এর প্রধান উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বিপজ্জনক মিশ্রণ: ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট গুঁড়ো করে সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’-এর সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। এটি ব্যবহারের ফলে মানুষ জ্ঞান হারিয়ে অনেকটা ‘জম্বি’ বা জীবন্ত লাশের মতো আচরণ করে, যা শরীরের অপূরণীয় ক্ষতিসহ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উচ্চমাত্রা: অনেক ক্ষেত্রে ২৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত উচ্চমাত্রার ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নিষিদ্ধ।
মৃত্যুর মিছিল: সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই মাদক সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ভারতের গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশভিত্তিক বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির নাম উঠে এসেছে, যাদের উৎপাদিত পণ্য কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আফ্রিকার বাজারে পৌঁছাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো হলো:
গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালস
মেরিট অর্গানিকস
ম্যাকডব্লিউ হেলথকেয়ার
সিনকম ফর্মুলেশনস
যদিও ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০২৫ সালে রপ্তানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, কিন্তু বাস্তবে পাচারকারীদের মাধ্যমে এর প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
নাইজেরিয়া: দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (NDLEA) ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
সিয়েরা লিওন ও ঘানা: এই দেশগুলো ট্যাপেন্টাডলকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অননুমোদিত ড্রাগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
শ্রমিকদের ঝুঁকি: দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ হাড়ভাঙা খাটুনি ও ব্যথা কমানোর আশায় এই ওষুধ গ্রহণ করে দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
ওষুধ শিল্পের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ রপ্তানি পথগুলো বন্ধ না করা গেলে আফ্রিকার এই ওপিওয়েড সংকট অচিরেই বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক