প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 6, 2026 ইং
শিশু ধর্ষণকাণ্ডে চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে বিচার ঠেকানোর অভিযোগ

আবারও শিশু ধর্ষনের অভিযোগ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নলোয়ারপাড় গ্রামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আড়াল করার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে। তবে চেয়ারম্যান শওকত আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে সংঘটিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত বদরুল আলমের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মামলা দায়ের থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী পরিবার তাঁর কাছে অভিযোগ নিয়ে এলে তিনি জানতে পারেন যে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭ লাখ টাকা ও জমি দেওয়ার প্রস্তাবের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। সামাজিক ও পারিবারিক কারণে দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, “আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ শুনে থাকি। উক্ত ঘটনার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের বক্তব্য শুনেছি। তবে বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় কোনো ধরনের মীমাংসা বা সালিশের উদ্যোগ গ্রহণ করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমি জানতে পারি যে ঘটনাটি আদালতে মামলা হিসেবে গিয়েছে। আমি চাই প্রকৃত অপরাধী আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি পাক। আমাকে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
উল্লেখ্য, ঘটনার বিষয়ে আদালতে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
© মাটি ও জনতার কথা