
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি আগামী এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক অর্থায়ন থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে আনতে চান। সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নেতানিয়াহু জানান, বর্তমানে ২০১৮ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে মোট ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতি বছরের সহায়তা: প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার।
নেতানিয়াহুর লক্ষ্য: এই সহায়তা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
মন্ত্রীর বক্তব্য: "আমি পরবর্তী কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না, এই পুনর্বিন্যাস এখনই শুরু করতে চাই।"
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
পিউ রিসার্চের তথ্য: বর্তমানে ৬০% মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলের প্রতি অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন না। ৫৯% মার্কিনি নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক অবস্থানের ওপর আস্থা রাখেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: নেতানিয়াহু এই জনসমর্থন কমার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘কারসাজি’কে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, কিছু দেশ পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ঝুঁকির গভীরতা বুঝতে মার্কিন পরিকল্পনাকারীদের সময় লেগেছে। ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
যদি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা দুর্বল বা উৎখাত হয়, তবে হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের মতো প্রক্সি নেটওয়ার্কের কাঠামো ভেঙে পড়বে।
এটি ঘটা সম্ভব হলেও তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।