
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার রেকর্ড পতনে দেশটির নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইরানের প্রধান দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে মূল্যস্ফীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে:
পরিসংখ্যান কেন্দ্র (SCI): গত বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৭৩.৫ শতাংশে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক: তাদের হিসাবে এই হার ৬৭ শতাংশ।
মাসিক বৃদ্ধি: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ৫% থেকে ৭% পর্যন্ত বেড়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খাদ্য খাতে। এসসিআই-এর হিসাবমতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত বছরের তুলনায় ১১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে তিনগুণ বা তারও বেশি:
| পণ্যের নাম | মূল্যবৃদ্ধির হার |
| ডালডা (কঠিন তেল) | ৩৭৫% |
| রান্নার তেল (তরল) | ৩০৮% |
| আমদানি করা চাল | ২০৯% |
| মুরগির মাংস | ১৯১% |
| ইরানি চাল | ১৭৩% |
ইরানি মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড পতন অব্যাহত আছে। বর্তমানে খোলাবাজারে এক ডলারের বিপরীতে মিলছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার রিয়াল, যা এক বছর আগেও ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার। সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকটকে শত্রুদের ‘অর্থনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। নৌ অবরোধ ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্টার্টআপ খাত পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি কঠিন পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
“অসুবিধা ও সমস্যা থাকবে এটাই স্বাভাবিক, তবে জনগণের সহযোগিতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির প্রস্তাব দিলেও তা কোনোভাবেই ‘আত্মসমর্পণ’ নয়।
ইরানের সাধারণ মানুষ এখন তাদের বেতনের সিংহভাগ খরচ করছে কেবল বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ভর্তুকি বা কুপন ব্যবস্থাও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না।