
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব কর্তৃক ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর খবর প্রথমবারের মতো সামনে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দুই পশ্চিমা ও দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
পাল্টা হামলা: মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানে এসব ‘গোপন হামলা’ চালায়। একজন কর্মকর্তার মতে, এটি ছিল সৌদি আরবে ইরানি হামলার বিপরীতে ‘ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়’ ধরনের পদক্ষেপ।
প্রথম সরাসরি অভিযান: এর আগে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ চললেও ইরানি ভূখণ্ডে রিয়াদের সরাসরি সামরিক অভিযানের খবর এই প্রথম প্রকাশ্যে এল।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে রিয়াদ নিজেকে অনেকটা অরক্ষিত বোধ করে এবং পাল্টা আঘাতের কৌশল নেয়।
আমিরাতের হামলা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে।
ভিন্ন কৌশল: আমিরাত তেহরানের সঙ্গে কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব সংঘাত এড়াতে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
অনানুষ্ঠানিক চুক্তি: বড় ধরনের পাল্টা হামলার হুমকির মুখে এবং নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতায় দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
হামলার হার হ্রাস: সৌদি আরবের কঠোর অবস্থানের পর ইরান সরাসরি হামলা কমিয়ে দেয়। রয়টার্সের হিসাবমতে, মার্চের শেষ সপ্তাহে ১০৫টির বেশি হামলা হলেও এপ্রিলের শুরুতে তা ২৫টিতে নেমে আসে।
সীমার মধ্যে সংঘাত: বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা পারস্পরিক বিশ্বাসের ফল নয়, বরং উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে যে অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর এই গোপন হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।