
লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সেখানে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
মৃত্যুকালে কারিনার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। তিনি বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি।
প্রাথমিক লক্ষণ: পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন কারিনা। পরবর্তীতে তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়।
চিকিৎসা প্রক্রিয়া: অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১১ মে) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শেষ মুহূর্ত: শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে কায়সার হামিদ জানান, "ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে আর বাঁচানো গেল না।" চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা করছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের (প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তৈরি করে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন কারিনা। কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। ওটিটি (OTT) ও নাটকের জগতেও তিনি নিজের প্রতিভা দিয়ে জায়গা তৈরি করে নিচ্ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ওটিটি চলচ্চিত্র ‘৩৬-২৪-৩৬’।
আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে কারিনার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার এই অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, দেশের বিনোদন জগতের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং লাখো ভক্ত।
মাত্র ৩০ বছর বয়সে এক সম্ভাবনাময় প্রতিভার এমন প্রস্থান দেশের বিনোদন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।