
বড় ধরণের বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদ চুক্তির প্রত্যাশা নিয়ে চীন সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সয়াবিন ও বোয়িং বিমান সংক্রান্ত কিছু চুক্তি ছাড়া বড় কোনো সমঝোতা ছাড়াই সফর শেষ করতে হয়েছে তাকে। তবে এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের চীন ছাড়ার নাটকীয় মুহূর্তটি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে চীন থেকে পাওয়া যাবতীয় উপহার, স্মারক এমনকি ব্যবহৃত সাময়িক ফোনগুলোও বেইজিংয়ে ফেলে এসেছেন তারা।
দুই দিনের এই সফরে চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদল বেশ কিছু উপহার ও স্মারক পেয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:
বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্যুভেনির ও স্মারক।
ল্যাপেল ব্যাজ।
সাংবাদিক বৈঠকের আমন্ত্রণপত্র।
নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রতিনিধিদল এর একটি জিনিসও সাথে নেননি। বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা একটি বড় আবর্জনার ঝুড়িতে সমস্ত উপহার ফেলে খালি হাতেই তারা বিমানে আরোহণ করেন।
গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প এবং তার সফরসঙ্গীরা (যাদের মধ্যে এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্কও ছিলেন) এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন:
ব্যক্তিগত ডিভাইস বর্জন: তারা তাদের নিয়মিত ব্যবহারের ব্যক্তিগত মোবাইল ও ল্যাপটপ যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে এসেছিলেন। কারণ গোয়েন্দাদের মতে, সুইচ-অফ করা মোবাইল ফোনও হ্যাকিং বা ট্র্যাকিংয়ের নিশানা হতে পারে।
বার্নার ফোনের ব্যবহার: চীনে থাকাকালীন জরুরি যোগাযোগের জন্য তারা অত্যন্ত সস্তা ও আধুনিক সুবিধাবর্জিত ‘বার্নার ফোন’ (অস্থায়ী ফোন) ব্যবহার করেন। এই ফোনগুলো হ্যাক করলেও শত্রুপক্ষের কোনো লাভ হয় না।
ফেরার আগে ধ্বংস: সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঠিক আগে এই বার্নার ফোনগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট ও স্ক্র্যাপ করে বেইজিংয়েই ফেলে দেওয়া হয়।
এই নজিরবিহীন সতর্কতার মূল কারণ হলো চীনা গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার নিরাপত্তার চরম উদ্বেগ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের সতর্কতা রয়েছে যে, চীন সফরের সময় ক্ষতিকর সফটওয়্যার (Malware) বা চিপের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের ডিভাইসে গোপনে আড়ি পাতা হতে পারে।
ওয়াশিংটনে ফেরার আগে স্বয়ং ডনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একে অপরের ওপর প্রতিনিয়ত গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে যেকোনো ধরণের ডেটা চুরি বা তথ্য পাচারের সামান্যতম সম্ভাবনাও নস্যাৎ করতেই এই কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলগুলোর জন্য এই পদ্ধতি নতুন না হলেও, এবার ট্রাম্প, মাস্ক ও হুয়াংদের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তা ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।