
আমি নজরুলের প্রেমে পড়েছি সাত বছর বয়সেই...
তাঁর শিশুতোষ লেখা এবং ইসলামী গানগুলো আমাকে ভীষণ ভাবে টানতো বেড়ে ওঠার পাশাপাশি একটু একটু করে পরিচিত হতে থাকি এই কবির সাথে। আব্বা, আম্মার সংগ্রহে যতো বই ছিলো সবার আগে নজরুলের বইগুলো পড়ে নিতাম,তাঁর গান শুনতাম দিনমান ভরে। কী যেন মোহনীয় সুর বাণী আমায় পাগল করে দিতো মনে হতো নজরুল শুধু প্রেমের কবি।
তাঁর সৃষ্টিসম্ভার থেকে যতো অল্পই ছুঁই না কেন কাঁচপোকার মতো ছোট হৃদয়টা প্রসার হতে থাকে তাঁর আলোকিত শতরূপে....
বিদ্রোহী নজরুলের আগে তিনি মানুষ নজরুল,
প্রিয় কবি বলেছেন 'আমি সকল যুগের সকল মানুষের কবি'
একটা কালের মধ্যে তিনি সীমাবদ্ধ নয় একটা দেশের মধ্যেও নয়, তিনি বিশ্বমানবতার কবি হয়ে উঠে ছিলেন।
আমার কাছে তিনি প্রথম কবি, প্রথম সাংবাদিক এবং প্রথম
রাজনীতিবিদ যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেন,নজরুলের পুরো জীবনটা ছিলো একটা
সামগ্রিক বিদ্রোহ...
এই যুদ্ধ বিদ্রোহ ছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।
নজরুল কোন হাতিয়ার নিয়ে যুদ্ধ করেন নাই তার কলমটা'ই
ছিল একটা মিসাইল Outstanding ছিল তাঁর প্রতিবাদের ভাষা
তিনি বলেছেন 'মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাশে ধ্বনিবে না'
যতদিন নিপীড়ন চলবে ততদিন কবির যুদ্ধও চলবে।
ছোট বেলায় শুনতাম নজরুল বেশি শিক্ষিত ছিলেন না এখনকার সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষিত মানে তো সরকারি কলেজের অধ্যাপক হওয়া, চিফ হিট অফিসার, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
নজরুলের শিক্ষা ভাবনা আলাদা, তাঁর কাছে শিক্ষা মানে সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা, মনুষ্যত্ব ও দেশ ব্রতের শিক্ষা।তাঁর প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ 'যুগবাণী ' ১৯২২ এর অক্টোবরে প্রকাশ হয়।
১৯২০ এ দৈনিক নবযুগে কবি যেসব সম্পাদকীয় প্রবন্ধ লেখেন তাঁরই একটি নির্বাচিত সংকলন যুগবাণী। কবি নিজেই এর প্রকাশক ছিলেন, ৯০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটির মূল্য ছিল এক টাকা, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, এই নিষেধাজ্ঞা ৫৫ বছর পর ১৯৭৭ সালে প্রত্যাহার করা হয়। যুগবাণীতে ২১ টি নিবন্ধ গ্রন্থবদ্ধ হয় ২১ টি নিবন্ধের মধ্যে ১৮,১৯,২০ তম নিবন্ধ তিনটি ছিল শিক্ষা সংক্রান্ত সত্য শিক্ষা, জাতীয় শিক্ষা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই নিবন্ধের বাইরেও তিনি চিঠিপত্র ভাষণে তাঁর শিক্ষা ভাবনা প্রকাশ করে গেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিবন্ধে তিনি বলেছেন 'প্রথমে আমাদিগকে মানুষ হইতে হবে, স্বার্থের মায়া ত্যাগ করিয়া
সত্য কে বড় করিয়া দেখিতে শিখিতে হইবে তাহার পর যেন বড় কাজে হাত দেই'
আমি এই শিক্ষাদর্শনে আজীবন আসক্ত থাকতে চাই।