ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৬নং কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেনকে অপসারণ করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।
এর ফলে আলমগীর হোসেনের দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এই ঘটনায় ৬নং কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। তারা তাদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে আবার কর্মস্থলে ফিরে পেয়ে অত্যন্ত উচ্ছসিত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মো. আলমগীর হোসেন ২০২১ সালের ১ জুলাই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইতিপূর্বেও তিনি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে গত ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। ওই আদেশে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আইউব আলী হাওলাদারকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল।
আইনি লড়াই ও হাইকোর্টের আদেশ
নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আলমগীর হোসেন এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
আজ ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ডিভিশন প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার ওই অফিস আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুলনিশি জারি করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আলমগীর হোসেনের পুনর্বহাল নিশ্চিত হলো।
আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালতে রিট পিটিশনারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
আইনজীবী কাওসার হোসাইন জানান, "আদালত সকল তথ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে
চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের অপসারণ আদেশ স্থগিত করেছেন। এখন তার দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনো বাধা নেই।"
চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের পদ ফিরে পাওয়ার খবর এলাকায় শুধু আনন্দ ও স্বস্তিই ছড়িয়ে পড়েনি, সেইসাথে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে তীব্র আত্মবিশ্বাস। তারা বলছে এলাকায় বইবে আবার শান্তির সুবাতাস।
আঞ্চলিক প্রতিনিধি