ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় ছবি - সংগ্রহীত
ad728
আজ ছিল এক  ঐতিহাসিক দিন।
দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। আর ফেরার প্রথম ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের যেভাবে নাস্তানাবুদ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার গতি আর ব্যাটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়াকে ডিএলএস (ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ২১ বছর ও ১৫ ম্যাচের ওয়ানডে জয়ের খরা ঘুচল শান্ত-মিরাজদের। ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এই সংস্করণে অজিদের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

মোসাদ্দেকের ম্যাচ জেতানো 'ক্যারিয়ার সেরা' ইনিংস
এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক আর কেউ নন, দীর্ঘ চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বাংলাদেশ দল যখন ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা নড়বড়ে, তখন সাতে নেমে অজি বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি।

ব্যাটিং তাণ্ডব: 
মাত্র ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে খেলেন অপরাজিত ৮৬* রানের এক চোখধাঁধানো ইনিংস, যা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্স: শুধু ব্যাট হাতেই নয়, পরে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট শিকার এবং ফিল্ডিংয়ে একটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরার (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কার নিজের করে নেন মোসাদ্দেক।
আজ টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ধাক্কা খায় দ্বিতীয় ওভারেই। ন্যাথান এলিসের বলে স্লিপে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান (৫)। তবে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

জুটির প্রতিরোধ: 
দুজনের ব্যাটে বাউন্ডারি আসতে থাকে নিয়মিত। তানজিদ ৪১ বলে তুলে নেন ফিফটি। দলীয় ১০১ রানে এলিসের স্লোয়ারে তানজিদ (৪৪ বলে ৫৪) আউট হলে ভাঙে ৯৬ রানের জুটি।

শান্তর দায়িত্বশীলতা: 
অধিনায়ক শান্ত নিজের ফিফটি পূরণ করেন ৫৭ বলে। তবে ম্যাট রেনশর জোড়া আঘাতে শান্ত (৮৬ বলে ৬৭) এবং লিটন দাস (৭) ফিরে গেলে দল চাপে পড়ে।


শেষের ক্যামিও: 
মোসাদ্দেককে যোগ্য সঙ্গ দেন তাওহিদ হৃদয় (৩১)। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।


২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে (০) বোল্ড করে বেলস উড়িয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর অজি তারকা লাবুশেনকে (১) মুস্তাফিজুর রহমান ফেরালে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর শুরু হয় গতিদানব নাহিদ রানার গতির আগুন ও বাউন্সের তান্ডব। অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় নাহিদ রানা যেভাবে হাত উঁচিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন এবং প্রায় তেড়ে গেলেন, সেটিই ছিল আজকের ম্যাচের প্রতীকী চিত্র—যেখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ছিল সম্পূর্ণ অসহায়।

নাহিদের শিকার: 
নাহিদ রানা ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি মহাগুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাঁর গতির সামনে অজিদের লেজকাটা ব্যাটসম্যানরা একরকম কাঁপছিলেন।

কুপার কনোলি (৩৫) ও অ্যালেক্স কেয়ারিকে (৪৭) ফিরিয়ে অজিদের প্রতিরোধ ভাঙেন মোসাদ্দেক। এরপর ২৮ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন (৫২*) ও অ্যাডাম জ্যাম্পা যখন লড়ছিলেন, তখনই মিরপুরের আকাশে তীব্র বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৯ উইকেটে ১৯১, তখনই ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী হয়।

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪, হৃদয় ৩১, তাসকিন ২০; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫)
অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২*, কেয়ারি ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মোসাদ্দেক ২/৩৭, মুস্তাফিজ ২/২৪)

ফলাফল: বাংলাদেশ ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে এভাবে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে লড়াই করে ফিরে আসা মোসাদ্দেকের এই রূপকথার ইনিংস এবং তরুণ নাহিদ রানার আগুনে স্পেল প্রমাণ করে—সঠিক সুযোগ ও সঠিক মানসিকতা থাকলে যেকোনো বিশ্বসেরা দলকেই মাটির সমতুল্য করা সম্ভব। 

নারায়ণগন্জের সাবেক মেয়র আইভীর মুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার

নারায়ণগন্জের সাবেক মেয়র আইভীর মুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার