পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে কুরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে আহত অবস্থায় তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গুরুতর আহত ২০ জনকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর:
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আহত ৮০ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জনের আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। তাদের হাড় ভেঙে যাওয়া বা গভীর ক্ষত তৈরি হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহতরা রাজধানীর যেসব এলাকার বাসিন্দা:
কুরবানির কাজ করতে গিয়ে আহত হওয়া ব্যক্তিরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢামেকে এসেছিলেন। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের সংখ্যাই বেশি। উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো:
পুরান ঢাকা: নারিন্দা, ওয়ারী, লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, চকবাজার, হাজারীবাগ ও বংশাল।
অন্যান্য এলাকা: সবুজবাগ, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, মিরপুর এবং পল্লবী।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? — চিকিৎসকের বক্তব্য
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কলিন্স মল্লিক গণমাধ্যমকে সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানান।
তিনি বলেন:
“আহতদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষই এসেছেন পশুর আক্রমণ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে। কেউ গরুর শক্ত লাথি ও শিংয়ের গুঁতা খেয়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন, আবার কেউ মাংস কোপাতে ও চামড়া ছাড়াতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের হাতে বা পায়ে ধারালো চাপাতি ও ছুরির আঘাত লাগিয়েছেন।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, আহতদের বড় অংশই প্রাথমিক চিকিৎসা (যেমন- সেলাই, ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিং) নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, এখন পর্যন্ত ঢামেকে কাউকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি। তবে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও হাড়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে, তাদের পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতি বছরই কুরবানির ঈদে এ ধরনের অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে অপেশাদার বা আনাড়ি মৌসুমি কসাইদের দিয়ে পশু সামলাতে গিয়ে এবং তাড়াহুড়ো করে মাংস কাটতে গিয়ে এই বিপত্তি বেশি হয়। কুরবানির বাকি দিনগুলোতে যারা পশু জবাই করবেন, তাদের চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে আরও বেশি সতর্ক ও ধৈর্যশীল হওয়া জরুরি।
স্টাফ রিপোর্টার