ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ, তবে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা: বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ, তবে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা: বাংলাদেশ ব্যাংক ছবি- আর্টিফেসিয়াল ইন্টেলিজেন্স
ad728

নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, সুশাসনের অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তার মতো নানামুখী অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও চলতি অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০২৪-২৫) দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির এই সার্বিক চিত্র এবং মধ্যমেয়াদী পূর্বাভাসের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিদায়ী অর্থবছরের চিত্র: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯৭ শতাংশে হ্রাস

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নানা অস্থিরতা, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে। ফলে বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের (৪.২২%) চেয়ে বেশ কম। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

মূল্যস্ফীতি ও ডলার বাজারের ঝুঁকি:

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা এখনো দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে:

  • আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কজনিত ধাক্কার কারণে আগামীতে আমদানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

  • শুল্কের প্রভাব: শুল্কের কারণে রপ্তানি আয় কমলে বাজারে ডলারের জোগান কমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

  • আশার আলো: বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের মন্থরগতি, কঠোর মুদ্রানীতি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আগামীতে কিছুটা কমে আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকটবর্তী পূর্বাভাস (চলতি অর্থবছর):

সূচকপূর্বাভাসের হার / লক্ষ্যমাত্রা
রপ্তানি আয় বৃদ্ধি১০ শতাংশ
রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাহ৮ শতাংশ
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি৮ শতাংশ
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (Reserve)৩,৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) ডলার

ব্যাংক থেকে সরকারের ‘মাত্রাতিরিক্ত’ ঋণ ও বিনিয়োগ স্থবিরতা:

প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, সরকারের রাজস্ব আদায় দুর্বল হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিতে হচ্ছে।

বিনিয়োগে বাধা: সরকারের এই অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাজারে তারল্য সংকট তৈরি করছে। ফলে ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

সমাধান: রাজস্ব আহরণ বাড়লে সরকারের ব্যাংক ঋণ কমবে, ব্যাংকে তারল্য বাড়বে এবং সুদের হার কমলে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

মাটি ও জনতার কথা’র বিশেষ নোট: একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় পেরিয়ে দেশে সদ্য নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলেও উত্তরাধিকার সূত্রেই ভঙ্গুর এক অর্থনীতি তাদের হাতে এসেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন শুল্ক নীতির মতো আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এই সরকারের মূল পরীক্ষা।

আপনার পত্রিকার অর্থ-বাণিজ্য পাতার জন্য কি বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশেষ ‘গ্রাফিক্যাল চার্ট’ বা নিউজ কার্ড তৈরি করতে হবে? জানালে আমি এখনই তা ডিজাইন করে দিচ্ছি।


সাহারা মরুভূমিতে তৃষ্ণায় ৪৯ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, বেঁচে

সাহারা মরুভূমিতে তৃষ্ণায় ৪৯ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, বেঁচে