ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

রামিসা কিংবা জাইমা রহমানের গল্প।

রামিসা কিংবা জাইমা রহমানের গল্প। অলংকরণ- এ আই
ad728
জাইমা রহমান প্রচন্ডভাবে রেগে আছে,
সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, এমন করে সারাদিন কেটে গেছে, সে দানা-পানি কিছু খায়নি।
মা অনেক বলেও খাওয়াতে পারেনি, কি হয়েছে, তা জিগ্যেস করেও জানতে পারেনি। তার এক কথা- আগে বাবা আসুক, তারপর খাবো৷
কোন কারণে আদরের একমাত্র মেয়ে রেগে থাকলে বাবা বুঝতে পারেন।
অস্থির এই সমগ্র বাংলাদেশের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সিন্ডিকেট, দূর্নীতি, কৃষি, শিল্প, সব কিছুতেই নানা রকম অসংগতি আর অস্থিতিশীল অবস্থায় নিজের কর্মস্থলে তার সময় কাটে৷
প্রতিটা মুহুর্ত কাটে তুমৃল ব্যস্ততায়।
এতো কিছুর পরও রোজ অফিস থেকে বাসায় ফিরে একমাত্র কন্যার সাথে আগে দেখা করেন। তার সারাদিন কেমন কাটলো, খাওয়া, পড়াশোনা সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে কি না সেই খোঁজ নেন। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে আবার ঘুমের আগ পর্যন্ত ব্যস্ততা। সারাদিনের করতে না পারা কাজগুলো যতটা সম্ভব তা গুছিয়ে নেন।

আজও অফিস থেকে ফিরে যথারিতী মেয়ের ঘরে গিয়ে বুঝতে পারলেন জাইমা রেগে আছে। কোন কারণে মেয়ের মন প্রচন্ড খারাপ৷ নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে জানলেন- মেয়ে সারাদিন কিছু খায়নি, ঘরের দরজা আটকে কান্না করেছে।
বাবা জানতে চাইলেন,- কি রে মা, কী হয়েছে তোমার?
বাবার কাছে বলো, কন্যার সব সংকটের সমাধান বাবারা করতে পারেন।
জাইমা রহমান নিজের চোখ মুছে বাবার কাছে এসে দাঁড়ায়। তারপর নিচু স্বরে বলে' - আগে কথা দাও আমি যা বলবো সেটা রাখবে?
বাবা বলেন- কথা দেয়ার কী আছে? আমি কি তোমার কোন চাওয়া অপূর্ণ রাখি?
তুমি বলো কী চাই তোমার?
কান্নায় জাইমা রহমানের গলা ভারী হয়ে আসে-
বাবা, আজ রামিসার সাথে কী হয়েছে তুমি সেটা জানো, এই বাচ্চা মেয়েটার সাথে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটার পরেও তুমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছো না? কেন ওই জানোয়ারটার বিচার দ্রুত সময়ে করছো না?
বাবা এবার বুঝতে পারলেন মেয়েরন খারাপের কারণ।
তিনি বললেন- কোথায় কিছু করছি না মা। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলার পর পরই তো আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। তার সর্বোচ্চ বিচার অবশ্যই হবে।
- সেটা কবে হবে বাবা? যে আসামি নিজে স্বীকার করে নিয়েছে নিজের অপরাধ, সোটা আবার তদন্ত করে সময় নষ্ট করার কী আছে? তাকে সোজা ফাঁসিতে ঝোলাও।

রামিসার হত্যাকারীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি পানিও খাবো না।
বাবা জানেন মেয়েটা প্রচন্ড জেদি। তাই গলা নরম করে বললেন- মা রে, তুমি যত দ্রুত ওর বিচার দেখতে চাও, আমি সম্ভবত তার চাইতেই দ্রুত চাই তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, কিন্তু তোমার জানা নেই যে আইনের নিজস্ব কিছু ধারা আছে। নিজস্ব কিছু রিতী আছে, সেই রিতী মেনে তদন্ত করে নির্দিষ্ট একটা সময় পার না হলে আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না।
তবে আমি বলে দিয়েছি, সেই সময়টা যত কম দেওয়া যায়।
বাবার কথায় জাইমা রহমানের মন ভরলো না। এবার সে আরো কঠিন বাক্য ব্যবহার করল- আচ্ছা বাবা, ধরে নাও এই ঘটনা রামিসার সাথে না ঘটে আমার সাথে ঘটল,
তখন তুমি কী করতে? আইনের দোহাই দিয়ে তুমি কী অপেক্ষা করতে, নাকি যে কোন উপায়ে হোক, জানোয়ারটাকে শাস্তি দিতে?
বাবা বুঝতে পারলেন তার মেয়ের মানসিক অবস্থা কোথায় পৌছেছে। নিজেও ধাক্কা খেলেন মেয়ের এরকম কথায়।
তিনি এবার জবাবে বললেন- আমি হয়তো নিজেকে ঠিক রাখতে পারতাম না, চাইতাম নিজ হাতে ওর শাস্তি দিতে, অথবা আইনের রিতী পরিবর্তন করে হলেও তাত্ক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতাম।


জাইমা এবার বাবার হাত ধরে বলল- এখোনো তুমি সেটাই করো বাবা, ওইসব পশুদের জন্য তুমি প্রয়োজন হলে আইনের রিতী বদলে দাও, আর শাস্তি নিশ্চিত করো। দেশের অভিভাবক তারেক রহমান মেয়ের মাধায় হাত রেখে পরম স্নেহে নিজের কাছে টেনে নিলেন, বললেন- আমি কথা দিচ্ছি মা, রামিসার জন্য আমি আইন বদলে দেবো। সবচে কম সময়ে ওদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমি পরবর্তী সংসদেই আইন পাশ করবো।
এবার অন্তত খেয়ে নাও। বাবার কথায় আস্বস্ত হয়ে নিজের চোখ মুছতে মুছতে জাইমা রহমান মাকে রাতের খাবার দিতে বললেন।

পরবর্তী সংসদে সবার আগে যে আইনটি পাশ হলো সেটি- ধর্ষকদের শাস্তি প্রমানসাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করতে হবে। এবং তা প্রকাশ্যে।
আইন পাশ হবার পরবর্তী সময়ে সবার আগে রামিসার খুনী ও ধর্ষকের ফাসির রায় হলো। এবং মাত্র দেড় মাস পরেই ধর্ষক ও তার সহযোগীর প্রকাশ্যে ফাসি কার্যকর হলো।
দেশের প্রতিটা বিকৃতমস্তিষ্কের ধর্ষকের অন্তর কেঁপে উঠলো সেই ফাঁসির দৃশ্য দেখে।
সবাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানালেন। সবাই জানেন এই আইন পাশ করে তারেক রহমান তার একান্ত প্রচেষ্টায় কার্যকর করেছেন। কিন্তু এর নেপথ্যে যে ছিল তার কন্যা, সেকথা কারো জানা নেই।
জাইমা রহমানের অবশ্য তা নিয়ে কোন আফসোস নেই৷ বরং তার মুখে এখন পরিতৃপ্তির হাসি।
----
গল্পটা কাল্পনিক,
তবে অসম্ভব না, একজন প্রধানমন্ত্রী যদি চান, তার চেষ্টায় এরকম আইন করা যায়। মন্ত্রীর কন্যারাও চাইলে এরকম জেদ ধরতে পারেন। এই গল্পটা এভাবেই সত্য হতে পারে৷ আমরা চাই, যে কোনভাবে এই গল্প সত্য হোক। আপনারাও কী তাই চান?

সর্বশেষ সংবাদ