ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নজরুল জয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন।

ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নজরুল জয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন। নিজস্ব ফটোগ্রাফার- মাটি ও জনতার কথা
ad728
সোমবার (২৫ মে) ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইউ আর সি মিলনায়তনে নজরুল জয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন করা হয়। কবি লিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাহিত্যিচিন্তক মির্জা মহিউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক গোলাম রব্বানী রতন এবং কবি ও শিশুসাহিত্যিক কাশীনাথ মজুমদার পিংকু। 


মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও নজরুল গবেষক আল রুহী। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক ড. আলী রেজা এবং সংগঠক ও সাহিত্যচিন্তক আবদুস সাত্তার খান। অনুষ্ঠানটি তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়। প্রথমে পর্বে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী সম্পর্কে আলোচনা, দ্বিতীয় পর্বে কবিতা পাঠ ও তৃতীয় পর্বে নজরুল সংগীত পরিবেশন। 


প্রধান অতিথি কবি ও সাহিত্যচিন্তক মির্জা মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন- "নজরুলের চিন্তা-চেতনা, নীতি ও আদর্শকে যদি আমরা ধারণ ও লালন করতে পারি তাহলে আমাদের মধ্যে কোনো অশান্তি থাকবে না, আমাদের দেশ হবে শান্তিময় একটি দেশ। কারণ কে মুসলিম, কে হিন্দু এবং কে খ্রিস্টান নজরুল তা আলাদা করে দেখেননি। তিনি সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি সবার মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। আমাদেরও উচিত সমাজে ন্যায় বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।"


বিশেষ অতিথি কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক গোলাম রব্বানী রতন তাঁর বক্তব্যে নজরুলের শৈশবের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। 
তিনি বলেন- "নজরুল জীবীকার তাগিদে অল্প বয়সে একটি রুটির দোকানে কাজ নেন। 
কাজ শেষে রাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে একটি ভবনের সিঁড়ির নীচে আশ্রয় নেন। তবু জীবন যুদ্ধে হার মানেননি। রুটির দোকানে কাজ করা সেই ছোট্ট নজরুলই অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে কলম ধরে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ছোটো-বড়ো সবার প্রিয় কবি।"

এছাড়াও নজরুল গবেষক আল রুহী, কবি কাশীনাথ মজুমদার পিংকু, প্রাবন্ধিক ড. আলী রেজা, সাহিত্যচিন্তক আবদুস সাত্তার খানসহ প্রমুখ তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবি খায়রুজ্জামান ভূঁইয়া, হাসান কায়কোবাদ জজ, এম কে হাতেম, রাসেল খান, হালিমা খাতুন, শফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার শ্রাবণসহ অসংখ্য কবি, ছড়াকার ও নজরুলপ্রেমী মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আলোচকবৃন্দের বক্তব্য শোনেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খ্যাতিমান কবি ও আবৃত্তিশিল্পী হারুন অর রশিদ। কবিতা পাঠ ও নজরুল সংগীত পরিবেশন শেষে সভাপতি কবি লিমা রহমানের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে কবি লিমা রহমান উপস্থিত সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও নজরুলপ্রেমী সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন- ''প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন তাঁরা শুধু আমাকে নয়, তাঁরা ভালোবাসেন নজরুলকেও। নজরুলের আদর্শ ও নীতিকে। সবার উপস্থিতি আমাকে ধন্য করেছে।"

আগামীতে সব ঠিকঠাক থাকলে আরও বড় পরিসরে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করার ইচ্ছাও পোষণ করেন নজরুল সাহিত্য ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি লিমা রহমান। 

সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ, তবে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে

অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ, তবে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে