ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বড় বরাদ্দ

৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বড় বরাদ্দ অলংকরণ- এ আই
ad728

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি). আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় এই উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়.

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের এডিপি সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী.


এডিপি ২০২৬-২৭: এক নজরে বাজেট কাঠামো

  • মোট আকার: ৩,০০,০০০ কোটি টাকা. (স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের ৮,৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত করলে মোট আকার দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা).

  • সরকারি অর্থায়ন (জিওবি): ১,৯০,০০০ কোটি টাকা.

  • বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান: ১,১০,০০০ কোটি টাকা.

  • প্রকল্প সংখ্যা: মোট ১,১২১টি অনুমোদিত প্রকল্প (বিনিয়োগ ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ৪৩টি). এছাড়া ১,২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকায় রাখা হয়েছে.

ইশতেহার বাস্তবায়ন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বিশেষ বরাদ্দ

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭,০০০ কোটি টাকার মধ্যে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে:

  • ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪,৫০০ কোটি টাকা.

  • কৃষক কার্ড কর্মসূচি: কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১,৪০০ কোটি টাকা.

  • সম্মানী বরাদ্দ: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানীর জন্য ১,১০০ কোটি টাকা.

খাত ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ:

১. পরিবহন ও যোগাযোগ খাত: ৫০,০৯২ কোটি টাকা (মোট এডিপির ১৬.৭০%). ২. শিক্ষা খাত: ৪৭,৫৯১ কোটি টাকা (১৫.৮৬%). ৩. স্বাস্থ্য খাত: ৩৫,৫৩৫ কোটি টাকা. ৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: ৩২,৬৯১ কোটি টাকা.

মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ (৩৩,৭৩৫ কোটি টাকা) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (৩০,৭৪১ কোটি টাকা).


আলোচনা ও বিতর্কে ‘অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ’

এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি (১ লাখ ১৮,২৮৮ কোটি টাকা). সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ যেখানে ১ লাখ ৮১,৭১১ কোটি টাকা, সেখানে এত বিপুল অর্থ সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থোক হিসেবে রাখায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা.

যেমন—স্বাস্থ্য বিভাগে চলমান প্রকল্পের বরাদ্দ যেখানে মাত্র ৬,০০৮ কোটি টাকা, সেখানে স্বাস্থ্য খাতের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০,৮০০ কোটি টাকা (যা প্রকল্পের চেয়ে সাড়ে তিন গুণ বেশি). একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় চলমান প্রকল্পের বরাদ্দ ৫,০৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪,৩৯২ কোটি টাকা.


 দীর্ঘ সময় পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই এডিপি পাস হওয়ায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এর বাস্তবায়ন হার বাড়ার আশা প্রকাশ করেছেন. তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার যেখানে মাত্র ৩৬.১৯ শতাংশ, সেখানে নতুন অর্থবছরের এই বিশাল রেকর্ড বাজেট মাঠপর্যায়ে কতটুকু স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ.


সর্বশেষ সংবাদ